মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

শিক্ষা প্রতিবেদেন

শিক্ষা প্রতিবেদন

শিক্ষা মানুষের একটি মৌলিক অধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের কাঙ্খিত ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়। যার প্রভাব প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রতিফলিত হয়। বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাসত্মবায়ন তথা সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিতকরণে ‘‘শিক্ষার বিনিময়ে উপবৃত্তি’’ প্রকল্পটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একটি যুগামত্মকারীর পদক্ষেপ। দারিদ্র প্রধান বাংলাদেশে এই প্রকল্পটি সমাজের সকল সত্মরে শিক্ষা বিসত্মারে এক অভাবনীয় সহায়কের ভূমিকা পালন করে চলেছে। দেশের সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার এলাকাগুলো ব্যতিত জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র বাংলাদেশকে এই প্রকল্পের আওতাভূক্ত করা হয়েছে। উপবৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে কীভাবে সমাজের সকল সত্মরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়া সম্ভবপর হয়েছে সেদিকে আলোকপাত করা যাক-

1. ভর্তির হার বৃদ্ধিঃগ্রাম ও দারিদ্র প্রধান এ দেশের অভিভাবকরা অর্থাভাবে তাঁদের শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ব্যর্থ হন। শিক্ষার বিনিময়ে উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্পটি চালুর পর তাঁরা আর্থিকভাবে কিছুটা স্বচ্ছল হওয়ায় শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে সমর্থ ও উৎসাহিত হচ্ছেন- যা শিশুদের শতভাগ ভর্তি নিশ্চিতকরণ কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

2. উপস্থিতির হার বৃদ্ধিঃউপবৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মৃদু শর্তাদি আরোপ করে তাদের নিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে আনা সম্ভবপর হয়েছে। ফলে উপবৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বেড়েছে।

3. শিশুশ্রম বন্ধঃএ দেশে প্রায়ই লক্ষ্য করা যায়, অভাবগ্রস্থ অভিভাবকরা একটু বেশী রোজগারের আশায় শিশুদের বিভিন্ন কায়িক শ্রমে নিযুক্ত করে বিদ্যালয়ে আসার পথকে রম্নদ্ধ করেন। কিন্তু যখন থেকে বিদ্যালয় সমূহে শিক্ষার বিনিময়ে উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্পটি চালু করা হয়, তখন সে সমসত্ম অভাবগ্রস্থ অভিভাবকের মধ্যে এক ধরনের বিরল সাড়া পড়ে এবং তারা তাদের শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে উৎসাহ বোধ করেন। যার ফলে আমাদের সমাজে শিশুশ্রম ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।

4. ঝরে পড়া হ্রাসঃউপবৃত্তি প্রদানের আরেকটি সফল দিক হলো শিশুদের ঝরে পড়া রোধ। অনেক শিশুই নিত্য অভাবের কারণে লেখাপড়া ছেড়ে সাংসারিক কাজকর্মে মনোনিবেশ করতে বাধ্য হত। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির অর্থ দ্বারা সহজেই তাদের প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো সংগ্রহ করে স্বাচ্ছন্দে বিদ্যালয়ে অবস্থান করছে। ফলে শিশুদের ঝরে পড়া অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে।

5. একীভূত শিক্ষার অঙ্গীকার বাসত্মবায়নঃজাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সকল সত্মরের শিশুরা এ প্রকল্পের আওতাভূক্ত হওয়ায় তারা একই শ্রেণী কক্ষে একসঙ্গে লেখাপড়া করার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে অভিভাবকগণ তাদের মনোভাব পরিবর্তন করে শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর ব্যাপারে অধিকতর সচেতন হয়ে উঠেন। এতে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান ক্রমশঃ উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

6. শিক্ষার হার বৃদ্ধিঃদারিদ্রতার ম্যাপিং অনুসারে দারিদ্রসীমা নির্ধারণ পূর্বক উপবৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে সমাজের সকল সত্মরকে বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি বিশাল অংশকে বিদ্যালয়ে টেনে আনা সম্ভবপর হওয়ায় শিশুরা নিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে অবস্থান করে শ্রেণী পাঠনায় অংশ গ্রহণের মাধ্যমে যথাসময়ে শিক্ষা চক্রকাল সমাপ্ত করছে। ফলশ্রম্নতিতে শিক্ষার হার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

7. পাশের হার বৃদ্ধিঃউপবৃত্তি প্রকল্পের আরেকটি সফল দিক হলো শিক্ষার্থীদের পাশের হার বৃদ্ধি। কেননা, শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি প্রাপ্তি হতে যাতে বঞ্চিত না হয় এজন্য তারা নিজ তাগিদে পাঠে আগ্রহী হয়ে উঠে। যা পরোক্ষভাবে পাশের হার বৃদ্ধি সহায়তা করে।

8. দারিদ্য বিমোচনঃযেহেতু সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এই প্রকল্পের আওতাভূক্ত, সেহেতু উপবৃত্তি প্রাপ্তিতে অনেক পরিবার দারিদ্র বিমোচনে এক নীরব ভূমিকা পালন করে।

9. নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণঃপ্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তির অর্থ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অভিভাবক হিসাবে মায়েদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পারিবারিক নিয়মিত আয়-উৎসের বাহিরে সীমিত সংখ্যক এই অর্থ তারা স্বাধীনভাবে খরচ করে- যা বিশেষ ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নে সহায়তা করছে।

পরিশেষে বলা যায়, ‘‘শিক্ষার বিনিময়ে উপবৃত্তি প্রদান’’ এর গুরম্নত্ব অপরিসীম ও সুদূরপ্রসারী। শিক্ষাক্ষেত্রে উপবৃত্তি কার্যক্রম সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করণে নীরবে কাজ করে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে এর প্রভাব সমাজ তথা রাষ্ট্রের সত্মরে ছড়িয়ে পড়তে শুরম্ন করেছে। খুব স্বল্প সময়েই আশা করা যায় বাংলাদেশ একটি ১০০% সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন দেশ হিসেবে বিশ্বের